সিভি লেখার নিয়ম? চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম 

সিভি লেখার নিয়ম? চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম

সিভি লেখার নিয়ম চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম 

CV

আপনার জীবনবৃত্তান্ত (CV) হচ্ছে একজন সম্ভাব্য চাকুরীদাতার কাছে একজন চাকুরীপ্রার্থী হিসাবে উপস্থাপন করার প্রাথমিক মাধ্যম ৷ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় চাকুরীপ্রার্থীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত সুন্দর এবং সঠিকভাবে তৈরী করার ব্যপারে গুরুত্ব প্রদান করে না ৷ ফলশ্রুতিতে অনেক যোগ্য প্রার্থীই Job Interview তে ডাক পায় না এবং যোগ্যতা প্রমানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় ৷

আপনার জীবনবৃত্তান্ত (CV) তৈরীর আগে যে সকল বাস্তবতার দিকে নজর রাখবেন—

একজন চাকুরীদাতা গড়ে একটি জীবনবৃত্তান্ত (CV)-এর উপর ৩০ সেকেন্ডের বেশী সময় দেয় না ৷ সুতরাং এটি হতে হবে সংক্ষিপ্ত ৷ তথ্যগুলোর উপস্থাপন হতে হবে সুস্পষ্ট ৷ অপ্রয়োজনীয় বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিহার করতে হবে ৷

একজন অনভিজ্ঞ/সদ্য পাস করা চাকুরীপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত এক থেকে দুই পাতার বেশী হওয়া কোনভাবেই উচিত্ নয় ৷

আপনার জীবনবৃত্তান্ত হচ্ছে আপনার নিজেকে বিপণন করার মাধ্যম ৷ সুতরাং এটি হতে হবে আকর্ষণীয় ৷ তবে চটকদার কোন কিছু যেমন রঙিন কাগজ বা রঙিন কালি ব্যবহার করবেন না ৷ কোন কিছু Highlight করতে হলে সেটিকে Bold, italic বা underline করতে পারেন ৷

মনে রাখবেন, আপনার জীবনবৃত্তান্তের মধ্যে যদি কোন বানান ভুল বা ভাষাগত/ Grammatical ভুল থাকে তবে সম্ভাব্য চাকুরীদাতার আপনার সম্বন্ধে নেতিবাচক ধারণা হবে ৷ এটি প্রকাশ পাবে যে আপনি কোন কাজই নির্ভুল ভাবে করতে সক্ষম নন ৷ সুতরাং একটি CV তৈরীর পর সেটি নিজে ভাল করে পড়ুন এবং শুদ্ধ ইংরেজী জানেন এমন ব্যক্তিকে দেখিয়ে নিন ৷

যখন আপনি কোন নির্দিষ্ট চাকুরী বিজ্ঞপ্তির (job announcement)-এর বিপরীতে আবেদন করার জন্য জীবনবৃত্তান্ত পাঠাবেন, তখন চেষ্টা করুন আপনার CV সেই চাকুরীর চাহিদা অনুযায়ী তৈরী করতে (Customize your CV) ৷ এর জন্য প্রয়োজন চাকুরী বিজ্ঞপ্তি ভাল করে পড়া এবং প্রতিষ্ঠানটি সম্বন্ধে কিছু গবেষণা (Research) করা ৷ উদাহরণ স্বরুপ আপনি যদি জানেন যে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের যে কোন স্থানে নিয়োগ দিতে পারে, তাহলে আপনি আপনার CV-তে উল্লেখ করতে পারেন আপনি বাংলাদেশের কোন কোন স্থানে পূর্বে অবস্থান করেছেন ৷ অথবা কোন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এমন কোন লোক খুঁজছে যার একজন ‘ সংগঠকের (organizer’) ভূমিকা পালন করতে হবে, সেই ক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার ছাত্রজীবনের কোন সাংগঠনকারীর ভূমিকা উল্লেখ করেন তবে আপনার CV নিয়োগকারীর কাছে আলাদা মূল্য পাবে ৷

এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার CV তে সঠিক তথ্য দিবেন ৷ এমন কোন তথ্য দিবেন না যা আপনার Job interview-তে ভুল প্রমানিত হতে পারে ৷

চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম

চাকরিতে সিভি এর প্রয়োজনীয়তা

শেষ হলো পড়াশোনা, এবার চাকরি খোঁজার পালা। সাধারণত গ্র্যাজুয়েশন শেষ হলেই শুরু হয় চাকরি খোঁজাখুঁজি। পত্রিকার পাতা খুলেই আমরা খোঁজ নেই কোথায় কোন পোস্টটা আমাদের জন্য পারফেক্ট। আর চাকরি খোঁজার আগে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো সিভি বা বায়োডাটা তৈরি করা। তার পর বিজ্ঞপ্তির সুবাদে সেই সিভি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো। সিভি দেখেই কিন্তু একজন ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে নিয়োগদাতারা জ্ঞাত হন এবং পরে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকেন। কিন্তু জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি দেয়ার পরও অনেক সময় প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। এমনটা অনেকের বেলায়ই ঘটে। তাই সিভি তৈরিতে হতে হবে বিশেষভাবে সচেতন ও সতর্ক। এবারে আসি একটি আদর্শ সিভি বা বায়োডাটা কীভাবে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে। এখানে নিচের কিছু বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিন। নিখুঁত ও সফল সিভি তৈরির নিয়ম তুলে ধরা হলো এই লেখায়।

সাধারণ দিকনির্দেশনা

আপনার সিভি বা রিজিউমের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ইন্টারভিউ পর্যন্ত আপনাকে পৌঁছে দেয়া। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে সর্বদাই আপনার যোগ্যতাকে এমনভাবে তুলে ধরুন যেন তা খুব সহজেই আপনার সকল তথ্যের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। এজন্য প্রথমেই চিন্তা-ভাবনা করে আপনার সিভি’র কোন কোন জায়গায় আপনি জোর দেবেন তা ভাবুন।

সিভি’র দৈর্ঘ্য

যারা সদ্য গ্র্যাজুয়েট, তাদের জন্য একপাতার সিভি’ই যথেষ্ট। আপনার কাজের অভিজ্ঞতা যদি খুব বেশি হয়, তাহলে এর দৈর্ঘ্য বড়োজোর দুই পৃষ্ঠা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যে পদটির জন্য আপনি আবেদন করছেন তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া দুই পৃষ্ঠার সিভি লেখার ক্ষেত্রে প্রথম পাতাতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাখার চেষ্টা করুন।

উপস্থাপনা

একটি ভালো সিভি’র জন্য এর উপস্থাপনের প্রক্রিয়াতেও জোর দেওয়া জরুরি। আপনার সিভিটি যেন সুশৃংঙ্খল এবং চোখে পড়ার মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। সিভিটি অবশ্যই কম্পিউটারে কম্পোজ করে উপস্থাপনের চেষ্টা করুন। যে কাগজটিতে প্রিন্ট করবেন সেটা যেন ভাল মানের সাদা বা অফ-হোয়াইট কাগজ হয়। সিভিতে যেন কোনো বানান বা ব্যবকরণগত ভুল না থাকে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

আধেয় বা কনটেন্ট

সিভি তৈরির আগে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা অবজেকটিভ ঠিক করুন। পুরো সিভিতেই এই অবজেকটিভের কথা মাথায় রেখে পয়েন্টগুলো উপস্থাপন করুন। তথ্যগুলো সিভিতে দেওয়ার আগে আলাদা একটি কাগজে লিখুন এবং তারপর গুরুত্বের ক্রমানুসারে এগুলোকে সিভিতে উপস্থাপন করুন। অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে কাউকে বিরক্ত করার চাইতে বাছাই করা তথ্যগুলোই কেবল সিভিতে রাখুন। নিজের দেওয়া তথ্যগুলো যাতে অতিরঞ্জিত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখুন।

প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ

সিভি তৈরির প্রাথমিক পরামর্শের পর আপনার প্রয়োজন হবে সিভিতে কোন কোন তথ্যগুলো রাখবেন, তা সঠিকভাবে নির্বাচন করা। এখানে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।

ব্যক্তিগত তথ্য

একটি সিভি হাতে নিয়ে চাকরিদাতার প্রথমেই নজর পড়বে সিভির একদম উপরের অংশে। কাজেই উপরের অংশটি একরকমভাবে চাকরিপ্রার্থীর ভিজিটিং কার্ড। এখানে প্রার্থীর প্রাথমিক ব্যক্তিগত তথ্য রাখতে হবে। এর মধ্যে থাকবে নাম, ফোন নম্বর বা মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও চিঠি পাঠানোর ঠিকানা। এসব তথ্য স্পষ্ট আর নির্ভুলভাবে উল্লেখ না করা হলে আপনাকে নিয়োগদাতার পছন্দ হলেও সে তথ্য আপনার অজানাই থেকে যাবে। আর ব্যক্তিগত তথ্যের এই অংশে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যগত বর্ণনা প্রভৃতি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

উদ্দেশ্য বা অবজেকটিভ

আপনার সিভি বা রিজিউমে অবশ্যই অবজেকটিভ বা ক্যারিয়ার অবজেকটিভ শিরোনামে আলাদা একটি অংশ রাখতে হবে। এতে করে আপনার সিভিটি অনেক বেশি ফোকাসড এবং সুনির্দিষ্ট বলে মনে হবে। কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি থেকে আপনি কী অর্জন করতে চান, আপনার ওপর কতটুকু নির্ভর করা যায় প্রভৃতি বিষয় স্পষ্ট করে লিখুন এই অংশে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতাগুলোকে উল্টোদিক থেকে উপস্থাপন করুন। অর্থাত্ সর্বোচ্চ ডিগ্রিটিকে সবার আগে লিখুন এবং তারপর ক্রমে একই ধারাবাহিকতায় অন্যগুলোর কথা বলুন। গ্র্যাজুয়েশন করার সময় কোনো রিসার্চ বা থিসিস নিয়ে কাজ করলে সেটার কথাও উল্লেখ করতে পারেন এই অংশে।

কাজের অভিজ্ঞতা

আপনার যেকোনো কাজের ইতিহাস, স্বেচ্ছাশ্রমের বৃত্তান্ত কিংবা ইন্টার্নশিপের তথ্য দিতে পারেন এ অংশে। এ ক্ষেত্রে আপনি কী পদে কাজ করতেন, আপনাকে কী ধরনের কাজ করতে হতো, নিয়োগদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং কাজের সময় অর্থাত্ কবে থেকে কবে পর্যন্ত কাজ করেছেন ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ করুন। যে পদের জন্য আবেদন করছেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কোনো অ্যাসাইনমেন্টও যদি কোনো সময় করে থাকেন, তবে তার কথাও উল্লেখ করতে পারেন। এমন কোনো অভিজ্ঞতা উল্লেখ না করাই ভালো, যা চাকরির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রেফারেন্স

আপনার দেওয়া তথ্যগুলো সম্পর্কে যেন দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি থেকে জানা যায়, সেজন্যই এই রেফারেন্সের ব্যবস্থা। যাদের রেফারেন্স দিচ্ছেন অবশ্যই আগে থেকেই তাদের অনুমতি নেবেন এবং বিষয়টি তাদের জানিয়ে রাখবেন। মোট রেফারেন্সের সংখ্যা দু’টি থেকে পাঁচটির মধ্যে সীমিত রাখাই উত্তম। যাদের রেফারেন্স আপনার সিভিতে দিচ্ছেন তাদের নাম, কোন পদে কাজ করেন, ব্যবসায়িক বা অফিসের ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

মনে রাখুন

সিভি হচ্ছে চাকরিদাতার সামনে আপনার প্রথম উপস্থাপনা। কাজেই চাকরিদাতার কাছে আপনার ‘ফার্স্ট লুক’ হচ্ছে আপনার সিভি। কাজেই এর সৌন্দর্যই হচ্ছে আপনার সৌন্দর্য। সিভিতে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলোর সংযোজন যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি এর দেখতে সুন্দর হওয়া। বাড়তি তথ্য আর ডিজাইনের ভিড়ে সিভিকে ভারি করবেন না। ডিজাইনের দিক থেকেও পরিচ্ছন্ন রাখুন। তাহলে সহজে এটি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে।

সিভি লেখার নিয়ম

নিখুঁত সিভি তৈরির নিয়ম

গ্র্যাজুয়েশন শেষ হলেই শুরু হয় চাকরি খোঁজাখুঁজি। আর চাকরি খোঁজার আগে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো সিভি বা বায়োডাটা তৈরি করা। নিখুঁত ও সফল সিভি তৈরির নিয়ম তুলে ধরা হলো:

১) খুব ঝকমকে বা রঙচংয়ের কাগজে সিভি লিখবেন না: একটি ভালো সিভি’র জন্য এর উপস্থাপনের প্রক্রিয়াতেও জোর দেওয়া জরুরি। আপনার সিভিটি যেন সুশৃংঙ্খল এবং চোখে পড়ার মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। সিভিটি অবশ্যই কম্পিউটারে কম্পোজ করে উপস্থাপনের চেষ্টা করুন। যে কাগজটিতে প্রিন্ট করবেন সেটা যেন ভাল মানের সাদা বা অফ-হোয়াইট কাগজ হয়। সিভিতে যেন কোনো বানান বা ব্যবকরণগত ভুল না থাকে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

২) ফ্রন্ট যেন খুব চেনা হয়: যে ফ্রন্টে সিভিটা লিখবেন সেটা যেন সহজ, সরল, চেনা হয়। ৩) হেডিংয়ে সিভি, বায়োডাটা, Resume এই ধরনের কথা লিখতে যাবেন না: অনেকেই আছেন যারা সিভির ওপর হেডিংয়ে CV, Curriculum Vitae and Resume জাতীয় কথা লেখেন, সেটার দরকার নেই।

৪) সিভিতে ছবি সংযুক্তকরণ: সিভিতে ছবি সবসময় ডানদিকে স্ট্যাপ্লার পিন বা জেমস ক্লিপ দিয়ে আটকে দিবেন। আর ছবিটি যেন সদ্য তোলা হয়, ৬ মাসের বেশি পুরনো ছবি না দেয়াই ভালো। ছবি তোলার সময় ফরমাল পোশাক পরে ছবি তুলবেন। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড যেন খুব বেশি রঙচঙে না হয়, সাদা বা হালকা নীল হলে ভালো হয়।

৫) অন্যান্য গুণাবলি বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস: আপনার মধ্যে পড়ালেখার পাশাপাশি অন্য কি কি গুণাবলি আছে তাঁর উল্লেখ থাকলে ভালো। অন্য গুণাবলির মধ্যে থাকতে পারে-

– আপনি অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও কাজ করতে পারেন

– আপনার মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি আছে

– আপনি যে কোন পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেন

– আপনি সৎ গুণাবলীর অধিকারী ও কাজের প্রতি যত্নশীল ইত্যাদি

এক্সট্রা কারিকুলাম বলতে বোঝায়, আপনি পড়ালেখার পাশাপাশি আর কি কি করেছেন। আজকাল সব প্রতিষ্ঠানেই এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের উপর জোর দেয়া হয় কারণ এ থেকে মানুষের ব্যাক্তিত্ব প্রকাশ পায়। এগুলো হতে পারে-

– বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা বা নতুন নতুন জায়গা পরিভ্রমণ করা

– বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন

– সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত

– লেখালেখিতে আগ্রহ ইত্যাদি

৬) আপনার আগ্রহ বা শখ: এরপর আপনার শখ বা অবসর সময়ে কি করেন তা উল্লেখ করুন। এক্ষেত্রে একটু চালাকি করতে হবে। সবসময় চাকরীর সাথে সংযুক্ত কোন শখ উল্লেখ করুন, যেমন আপনি যদি মার্কেটিংয়ের কোন চাকরীতে আবেদন করেন তবে আপনার শখ আড্ডা দেওয়া হলে ভাল। কারন আপনি আড্ডা দেন এর অর্থ আপনার নেটওয়ার্ক ভাল, আপনি ভাল যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে পারবেন। শেষে যুক্ত করুন আপনার যদি কোন অতিরিক্ত এবং উল্লেখযোগ্য কার্জকলাপ থাকে।

৭) কাভার লেটার: অবশ্যই এবং অবশ্যই আপনার সিভির সাথে একটা কাভার লেটার পাঠাবেন। এখানে আপনি বলতে পারেন সেই পোস্টটা সম্পর্কে যে পোস্টে আপনি আবেদন করছেন এবং কিভাবে আপনি এই চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুজে পেলেন। এটা খুব বেশি বড় করবেন না আবার খুব বেশি ছোট ও করবেন না।

এবার জেনে নিই জীবনবৃত্তান্তের সঠিক বিন্যাস কিভাবে করবেন তা।

যদি খামে পোস্ট করেন-

বাদামী,সাদা বা হলুদ রঙের খাম হতে পারে। তবে রঙিন বা এয়ার মেইল জাতীয় খামে পাঠানো উচিত নয়। সতর্কতার সঙ্গে সমান ভাঁজ করে নিতে হবে আপনার সিভিটি যাতে খামের ভেতর অনাকাঙ্খিতভাবে ভাঁজ হয়ে না থাকে। খামের ডান পাশে স্পষ্টাক্ষরে প্রাপক এবং বাম পাশে আবেদনকারী কিংবা প্রেরকের নাম লিখতে কালো কালির কলম ব্যবহার করাই ঠিক হবে।

সিভি মেইল করা হলে-

সিভি যদি মেইল করে পাঠান তাহলে ভালো করে মেইল পাঠানোর ঠিকানাটা চেক করে নিবেন যেন ভুল না হয় তাহলে আপনার মেইল ফেরত আসবে। সাবজেক্ট-এর ঘরে কোন পোস্টের জন্য আবেদন করছেন তাঁর উল্লেখ থাকতে হবে। আর মেইলের বডিতে ভদ্রভাবে সম্বোধন করে আপনার মেইল এটাচমেন্টটা চেক করতে বলবেন এবং সবার শেষে ধন্যবাদান্তে আপনার নাম উল্লেখ করবেন।

৮) ‘আমি’, ‘আমার’ জাতীয় শব্দ এডি়য়ে চলুন- আমি অমুক কোম্পানিতে টিম লিডার ছিলাম, আমার অমুক ছিল। আমি, আমার শব্দ সিভিতে ত্যাগ করুন, এর বদলে বুলেট ব্যবহার করে পয়েন্ট অনুযায়ী সাজান।

৯) বানান ভুল বা ব্যাকরণগত ত্রুটি একদম যেন না থাকে: সিভিতে বানান ভুল বা বাক্য তৈরিতে ব্যাকরণগত ত্রুটি করে ফেলবেন না। একটা ছোট্ট ভুলের জন্য আপনার চাকরিটা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

১০) বর্তমান চাকরির যাবতীয় তথ্য: বর্তমানে যে চাকরিটা করছেন তার যাবতীয় তথ্য দিন। আপনার ‘জব রোল’ ঠিক কী সেটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।

১১) সিভি’র দৈর্ঘ্য: যারা সদ্য গ্র্যাজুয়েট, তাদের জন্য একপাতার সিভি’ই যথেষ্ট। আপনার কাজের অভিজ্ঞতা যদি খুব বেশি হয়, তাহলে এর দৈর্ঘ্য বড়োজোর দুই পৃষ্ঠা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যে পদটির জন্য আপনি আবেদন করছেন তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া দুই পৃষ্ঠার সিভি লেখার ক্ষেত্রে প্রথম পাতাতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাখার চেষ্টা করুন।

১২) মিথ্যা তথ্য বা তথ্য গোপন করবেন না: সিভিতে মিথ্যা কথা একদম বলতে যাবেন না। পরে ধরা পড়ে গিয়ে চাকরি খোয়াতে পারেন।

১৩) সাধারণ দিকনির্দেশনা: আপনার সিভি বা রিজিউমের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ইন্টারভিউ পর্যন্ত আপনাকে পৌঁছে দেয়া। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে সর্বদাই আপনার যোগ্যতাকে এমনভাবে তুলে ধরুন যেন তা খুব সহজেই আপনার সকল তথ্যের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। এজন্য প্রথমেই চিন্তা-ভাবনা করে আপনার সিভি’র কোন কোন জায়গায় আপনি জোর দেবেন তা ভাবুন।

১৪) আধেয় বা কনটেন্ট: সিভি তৈরির আগে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা অবজেকটিভ ঠিক করুন। পুরো সিভিতেই এই অবজেকটিভের কথা মাথায় রেখে পয়েন্টগুলো উপস্থাপন করুন। তথ্যগুলো সিভিতে দেওয়ার আগে আলাদা একটি কাগজে লিখুন এবং তারপর গুরুত্বের ক্রমানুসারে এগুলোকে সিভিতে উপস্থাপন করুন। অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে কাউকে বিরক্ত করার চাইতে বাছাই করা তথ্যগুলোই কেবল সিভিতে রাখুন। নিজের দেওয়া তথ্যগুলো যাতে অতিরঞ্জিত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখুন।

১৫) প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ: সিভি তৈরির প্রাথমিক পরামর্শের পর আপনার প্রয়োজন হবে সিভিতে কোন কোন তথ্যগুলো রাখবেন, তা সঠিকভাবে নির্বাচন করা। এখানে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।

১৬) ব্যক্তিগত তথ্য: একটি সিভি হাতে নিয়ে চাকরিদাতার প্রথমেই নজর পড়বে সিভির একদম উপরের অংশে। কাজেই উপরের অংশটি একরকমভাবে চাকরিপ্রার্থীর ভিজিটিং কার্ড। এখানে প্রার্থীর প্রাথমিক ব্যক্তিগত তথ্য রাখতে হবে। এর মধ্যে থাকবে নাম, ফোন নম্বর বা মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও চিঠি পাঠানোর ঠিকানা। এসব তথ্য স্পষ্ট আর নির্ভুলভাবে উল্লেখ না করা হলে আপনাকে নিয়োগদাতার পছন্দ হলেও সে তথ্য আপনার অজানাই থেকে যাবে। আর ব্যক্তিগত তথ্যের এই অংশে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যগত বর্ণনা প্রভৃতি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

১৭) উদ্দেশ্য বা অবজেকটিভ: আপনার সিভি বা রিজিউমে অবশ্যই অবজেকটিভ বা ক্যারিয়ার অবজেকটিভ শিরোনামে আলাদা একটি অংশ রাখতে হবে। এতে করে আপনার সিভিটি অনেক বেশি ফোকাসড এবং সুনির্দিষ্ট বলে মনে হবে। কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি থেকে আপনি কী অর্জন করতে চান, আপনার ওপর কতটুকু নির্ভর করা যায় প্রভৃতি বিষয় স্পষ্ট করে লিখুন এই অংশে।

১৮) শিক্ষাগত যোগ্যতা: আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতাগুলোকে উল্টোদিক থেকে উপস্থাপন করুন। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ডিগ্রিটিকে সবার আগে লিখুন এবং তারপর ক্রমে একই ধারাবাহিকতায় অন্যগুলোর কথা বলুন। গ্র্যাজুয়েশন করার সময় কোনো রিসার্চ বা থিসিস নিয়ে কাজ করলে সেটার কথাও উল্লেখ করতে পারেন এই অংশে।

১৯) কাজের অভিজ্ঞতা: আপনার যেকোনো কাজের ইতিহাস, স্বেচ্ছাশ্রমের বৃত্তান্ত কিংবা ইন্টার্নশিপের তথ্য দিতে পারেন এ অংশে। এ ক্ষেত্রে আপনি কী পদে কাজ করতেন, আপনাকে কী ধরনের কাজ করতে হতো, নিয়োগদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং কাজের সময় অর্থাত্ কবে থেকে কবে পর্যন্ত কাজ করেছেন ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ করুন। যে পদের জন্য আবেদন করছেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কোনো অ্যাসাইনমেন্টও যদি কোনো সময় করে থাকেন, তবে তার কথাও উল্লেখ করতে পারেন। এমন কোনো অভিজ্ঞতা উল্লেখ না করাই ভালো, যা চাকরির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

২০) রেফারেন্স: আপনার দেওয়া তথ্যগুলো সম্পর্কে যেন দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি থেকে জানা যায়, সেজন্যই এই রেফারেন্সের ব্যবস্থা। যাদের রেফারেন্স দিচ্ছেন অবশ্যই আগে থেকেই তাদের অনুমতি নেবেন এবং বিষয়টি তাদের জানিয়ে রাখবেন। মোট রেফারেন্সের সংখ্যা দু’টি থেকে পাঁচটির মধ্যে সীমিত রাখাই উত্তম। যাদের রেফারেন্স আপনার সিভিতে দিচ্ছেন তাদের নাম, কোন পদে কাজ করেন, ব্যবসায়িক বা অফিসের ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

২১) মনে রাখুন: সিভি হচ্ছে চাকরিদাতার সামনে আপনার প্রথম উপস্থাপনা। কাজেই চাকরিদাতার কাছে আপনার ‘ফার্স্ট লুক’ হচ্ছে আপনার সিভি। কাজেই এর সৌন্দর্যই হচ্ছে আপনার সৌন্দর্য। সিভিতে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলোর সংযোজন যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি এর দেখতে সুন্দর হওয়া। বাড়তি তথ্য আর ডিজাইনের ভিড়ে সিভিকে ভারি করবেন না। ডিজাইনের দিক থেকেও পরিচ্ছন্ন রাখুন। তাহলে সহজে এটি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে।

সিভি লেখার নিয়ম

সিভি লেখার সহজ কৌশল

চাকরি সন্ধানের ক্ষেত্রে অনেক আবেদনকারীই সাক্ষাৎকারের ডাক পান না। এমনও আছেন অনেকবার অনেক প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দিয়েছেন কিন্তু সাক্ষাৎকারের ডাক পাননি। অনেক কারণেই এমন ঘটতে পারে। আপনি যে চাকরি চাচ্ছেন, সিভি হয়তো তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; অথবা সিভিতে আপনার তথ্যাদি উপস্থাপনে কোথাও ত্রুটি রয়ে গেছে কিংবা সিভিতে সব ধরনের তথ্যই উল্লেখ করেছেন কিন্তু উপস্থাপন কৌশলে কোথাও ভুল হয়েছে। আবার এমনও হতে পারে, আপনার যোগ্যতা প্রমাণে সবচেয়ে উপযুক্ত তথ্যটিই অন্য সব তথ্যের আড়ালে পড়ে গেছে এবং নিয়োগদাতার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। সিভিতে এমন অজস্র কৌশলগত দুর্বলতা থেকে যেতে পারে, যা কাম্য নয়। সিভি দেখতে ক্ষুদ্র। এর পাঠক হয়তো মাত্র কয়েকজন, কিন্তু চাকরি সন্ধানীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থী ব্যক্তিগত পরিচয়টাই সিভিতে উপস্থাপন করেন। অনেকেই মনে করেন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিচয় এবং কী কী শিক্ষাগত সনদ অর্জন করেছেন সিভিতে সেগুলো উপস্থাপন করাই যথেষ্ট। নিজের গুণ এবং দক্ষতা তারা উপস্থাপন করেন না বা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না। অথচ আধুনিক নিয়োগকর্তারা প্রার্থীর প্রায়োগিক গুণ ও দক্ষতাকেই গুরুত্ব দেন। নিয়োগকর্তা জানতে চান প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সম্পর্কে। সুতরাং বর্তমান সময়ের বায়োডাটা বা সিভিতে এর প্রতিটি বিষয়ই উপস্থাপন জরুরি।

বর্তমানে বায়োডাটা শব্দটির পরিবর্তে আরও দুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়। একটি রেজুমে (Resume) আরেকটি সিভি (CV) অর্থাৎ কারিকুলাম ভিটা (Curiculum Vitae)। সিভির পরিবর্তে রেজুমে শব্দটি প্রয়োগ করা হলেও কারিকুলাম ভিটা কিন্তু প্রায়োগিক অর্থে রেজুমে বা সিভি নয়। যদিও সিভি এবং রেজুমে শব্দ দুটি একই উদ্দেশ্য সাধন করে, দুটোই নিয়োগকর্তার কাছে একজন আদর্শ প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এদের পার্থক্য মূলত গঠন, বিবরণ, দৈর্ঘ্য এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে।

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত নিজ নিজ সিভি তৈরি করতে শেখা। তৈরি করা সিভিতে প্রকারভেদ হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে সিভি তৈরির ফরমেট ৩টি : ক্রনোলজিক্যাল, ফাংশনাল এবং কম্বাইন্ড।

ক্রনোলজিক্যাল সিভি : ক্রনোলজিক্যাল ফরমেট সবচেয়ে প্রচলিত সিভি ফরমেট। চাকরির পদবি, চাকরির স্থান এবং চাকরির কার্যকালকে হেডিং হিসেবে এতে হাইলাইট করা হয়। ক্রনোলজিক্যাল ফরমেট তখনই উপযোগী হবে যখন আপনি একই ধরনের পেশায় বহুদিন কর্মরত ছিলেন। এবং আপনার কাজের ধারা হল ক্রমোন্নতি। এই ফরমেটে সর্বশেষ পেশাগত অবস্থান, প্রতিষ্ঠান, দায়িত্ব ও দায়িত্বকাল অভিজ্ঞতার অংশে প্রথমে চলে আসে। নিয়োগদাতারা এ ধরনের ক্রনোলজি পছন্দ করেন। কারণ তারা প্রার্থীর সর্বশেষ পেশাগত অবস্থা পলকেই জানতে পারেন এ ধরনের সিভি থেকে।

ফাংশনাল সিভি : এ ধরনের সিভিতে দক্ষতাভিত্তিক হেডিং ব্যবহৃত হয়। যে ক্ষেত্রে আপনি সর্বোত্তম দক্ষতা এবং সাফল্য দেখিয়েছেন তা আগে আসে। ফলে তা সময়ানুক্রমিক হয় না। এ ফরমেটে আপনার অর্জনগুলোর তালিকা থেকে আলাদা একটা সংক্ষিপ্ত অংশে কর্মধারাক্রম (work history) সতর্কভাবে উল্লেখ করতে হবে। ফাংশনাল ফরমেট তখনই উপযোগী হবে যখন আপনি কেরিয়ার পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন বা গ্যাপ দিয়ে পুনরায় জব মার্কেটে ঢুকতে যাচ্ছেন।

কম্বাইন্ড সিভি : ক্রনোলজিক্যাল এবং ফাংশনাল সিভির সমন্বিত রূপই হল কম্বাইন্ড সিভি। কম্বাইন্ড ফরমেটে সিভি দুভাবে তৈরি করা যায়। প্রথমে দক্ষতা ও সফলতার বিবরণ দিয়ে তারপর অভিজ্ঞতার ক্রনোলজিক্যাল বিবরণ দিতে পারেন। অথবা ক্রনোলজিক্যাল ফরমেটে অভিজ্ঞতা সাজিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কী কাজ করেছেন তা উল্লেখ করতে পারেন। কম্বাইন্ড ফরমেট উপযোগী হবে যখন আপনার অতীত পেশাগত ইতিহাস সমৃদ্ধ থাকবে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ অভিজ্ঞতার ফলে আপনি ভালো দক্ষতা অর্জন করেছেন। এই দক্ষতাকেই আপনি কাঙ্খিত চাকরি পাওয়ার মূল চাবিকাঠি ভাবছেন।

সিভিতে কী কী থাকবে : সিভির প্রথমেই থাকবে হেডিং। এ অংশে আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল এড্রেস, এমনকি ওয়েব এড্রেস থাকলে সেটিও উল্লেখ করুন। সিভির শুরুতে এ অংশটুকু পৃষ্ঠার ওপরের মধ্য অংশে বা ডান কোনায় লিখতে হবে। এরপর জব অবজেক্টিভ। কোন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে আপনি সক্ষম এবং সিভির যাবতীয় তথ্য কোন দৃষ্টিকোণ থেকে পড়তে হবে সেটা জব অবজেক্টভ নিয়োগ দাতাকে বলে দেবে। সে কারণে জব অবজেক্টিভ হবে সংক্ষিপ্ত।

এরপর অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ অংশ। যে পেশা ও পদের নাম আপনি জব অবজেক্টিভ অংশে উল্লেখ করেছেন সে পেশার জন্য কেন আপনি আদর্শ প্রার্থী এখানে সে কথাই লেখা থাকবে। এটি আপনার যোগ্যতার সারসংক্ষেপ অংশ। এখানে আপনার অভিজ্ঞতা, পদবি, আপনার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন, বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা, পার্সনাল ভেল্যুজ, ওয়ার্ক এথিকস, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং যা আপনার কাঙ্খিত পেশার অনুকূলে বিবেচিত হয় লিখুন।

এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা। এ অংশটিকে Educational Qualification, Educational History শিরোনামেও দেওয়া যায়। অনেক সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশটি সিভির শুরুতে Objective বা সামারি অংশের নিচেও উপস্থাপন করা হয়। এটা তখনই করবে যখন আপনি নতুন গ্রাজুয়েট। অথবা আপনার পেশা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো প্রশিক্ষণ বা ডিগ্রি থাকে। আবার অনেক সময় দরখাস্তের সঙ্গে একাডেমিক তথ্যাদিসহ সিভি চাওয়া হয়। তখনও আপনি এটি করতে পারেন।

সিভিতে ব্যক্তিগত কিছু তথ্যের পর সবশেষে আপনার সম্পর্কে ভালো বলবে এমন ৩ থেকে ৫ জন ব্যক্তির রেফারেন্স সংগ্রহ করে সিভিতে সংযুক্ত করুন। যার রেফারেন্স আপনি ব্যবহার করতে চাচ্ছেন আগে থেকেই তার কাছ থেকে অনুমতি নিন। তালিকায় প্রত্যেকের ক্রমিক নম্বর, নাম ও পদবি, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল অ্যাড্রেস লিখুন। তবে চাকরিদাতা যদি রেফারেন্স না চায় সে ক্ষেত্রে সিভিতে রেফারেন্স উল্লেখ না করাই ভালো।

সিভিতে অনাবশ্যক তথ্য : সিভিতে কী ধরনের তথ্য উল্লেখ করবেন সে ব্যাপারে সতর্ক হোন। অত্যন্ত ব্যক্তিগত তথ্যাদি দিয়ে সিভি অযথা ভারি করতে যাবেন না। এমন অনেক তথ্য আছে যা দরকারি চাকরি এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে চাইলে উল্লেখ করার প্রয়োজন হতে পারে। একটি সঠিক, আধুনিক ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী সিভি তৈরি করার ক্ষেত্রে যেসব তথ্য বাদ দেওয়া যেতে পারে :

সিভি বা সিভির ওপরে CV, Resume, Biodata এমন শব্দ, বেতন সংক্রান্ত তথ্য, পূর্বতন চাকরিদাতা বা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ ঠিকানা, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান (বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় না হলে), বয়স জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ, ধর্মগত পরিচয়, শখ, বৈবাহিক অবস্থা, জন্মস্থান, উচ্চতা, ওজন, এবং স্বাস্থ্য। প্রয়োজনে এসব তথ্য প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

আরও কিছু বিষয় : সিভি লেখার সময় যে কোনো প্যারা বা অনুচ্ছেদে অনূর্ধ্ব ৬ লাইনের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখাই হচ্ছে আদর্শ নিয়ম। এবার জেনে নিন সিভির বাহ্যিক কিছু বিষয়ে কী কী লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে সে বিষয়ে। যেমন এমনভাবে সিভি তৈরি করবেন যাতে এর দৈর্ঘ্য ২ পৃষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। নতুন গ্রাজুয়েটদের ক্ষেত্রে সিভি ১ পৃষ্ঠার বেশি হওয়া উচিত নয়।

সিভি তৈরিতে স্ট্যান্ডার্ড এ-ফোর অথবা লেটার সাইজের অফসেট কাগজ ব্যবহার করতে হবে। সিভি এবং কভার লেটারের জন্য কেবল সাদা এবং আইভরি রংয়ের কাগজই গ্রহণযোগ্য। সিভি ফটোকপি মেশিনে কপি না করে কম্পিউটারের মাধ্যমে যাতে ভালো মানের অফসেট প্রিন্ট নেওয়া যায় সে দিকটা খেয়াল রাখুন। ফটোকপিতে লেখা অস্পষ্ট ও দৃষ্টিকটূ হতে পারে।

সামান্য ব্যাকরণ ও বানানগত ভুলের কারণে সিভি বাতিল হিসেবে গণ্য হতে পারে। মনে রাখতে হবে, সিভিতে সঠিক ব্যাকরণ ও বানানগত উপস্থাপন আপনার ভাষার দক্ষতা ও সচেতনতার প্রমাণ। সুতরাং সিভি লেখার পর চূড়ান্ত প্রিন্ট নেওয়ার আগে বেশ কয়েকবার প্রুফ দেখে নিন।

সিভি টাইপের ক্ষেত্রে সহজসাধ্য ফন্ট নির্বাচন করুন। শিরোনাম ও বুলেট পয়েন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগুলো এমনভাবে ফরমেটিং করুন যাতে বোল্ড করা এবং বড় হাতের অক্ষর ব্যবহারের পরও সিভির প্রতি অংশের মাঝে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফাঁকা স্থান থাকে। সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক, গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য বা শব্দকে হাইলাইট করার জন্য Bold, Italic ফন্ট ব্যবহার করুন। টাইপিংয়ে সাধারণভাবে ১০ থেকে ১২ সাইজের ফন্ট ব্যবহার করুন। শিরোনাম টাইপ করার ক্ষেত্রে ১৪ থেকে ১৬ সাইজের ফন্ট ব্যবহার করুন।

অবশ্যই পড়বেন

Similar Posts

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.