নামাজ পড়ার নিয়ম? জেনে নিন

নামাজ পড়ার নিয়ম? জেনে নিন

নামাজ পড়ার নিয়ম

আল্লাহ মানুষকে পাঁচ ওয়াক্ত প্রতিদিন আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। এমন কিছু কাজ আছে যা ইচ্ছা কৃতভাবে করলে নামাজ হবেনা।

১ নামাজে কথা বলা

নামাজের সূরা,কেরাত,তাসহিব, দোয়া। ছার অন্য কোনো কথা বললে নামাজ হবেনা। এরকম হলে। তাকে আবার নামাজ পরতে হবে।

২নামাজে পানাহার করা

নামাজ আদায় করার সময় কেউ জোদি কোনো কিছু পানাহার করে। তাহলে তার নামাজ হবেনা। তাকে আবার নামাজ পড়তে হবে।

৩ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের শত ত্যাগকরা ওজু না করে নামাজ পড়া। যেমন নামাজে ওজু করা ফরজ। ওজু নাকরে নামাজ পড়লে নামাজ হয়না।

৪নামাজে উচ্চস্বরে হাসা

নামাজে উচ্চস্বরে হসলে নামাজ হয়না। যেমন কেউ নামাজ পড়ছে সে এমন ভাবে হাসছে যে বাহিরে সুনা জাচছে। সে জূদি ইচ্ছা কৃতভাবে হাসে তাহলে তার নামাজ হবেনা। তাকে তার নামাজ আবার পড়তে হবে।

৫ইচ্ছাকৃত বেশি কাজ (আমলে কাছির) করা

নামাজে শুরু করার পর এত বেশি পরিমাণ কাজ করা যাতে এমন মনে হয় যে সে নামাজে নেই। এটা এমন হতে পারে যে, নামাজে এত বেশি নড়াচড়া করা হয় যাতে মনে হয় যে নামাজ পড়ছে না। আবার এত দীর্ঘ সময় প্রতিটি রোকন আদায় করা যে নামাজির প্রতি দৃষ্টিপাত করলে এমনটি মনে হবে যে সে নামাজে নেই।

নামাজ পড়ার পদ্ধতি

নামাযের ফরজ মোট ১৩ টি। আহকাম ৭ টি। আরকান ৬ টি। নামাযের বাহিরের কাজগুলিকে আহকাম বলে। আর নামাযের ভিতরের কাজগুলোকে আরকান বলে।

আহকাম

১শরীর পাক হওয়া। বা পবিত্র হওয়া।

২কাপড় পাক হওয়া। বা পবিত্র হওয়া।

৩নামাজের এস্তান পাক। বা পবিত্র হওয়া।

৪সতর ঢেকে রাখা।

৫কিবলা মুখী হওয়া।

৬ওয়াক্ত মতো নামাজ পড়া।

৭নামাজের নিয়ত করা।

আরকান

১তাকবীরে তাহরীমা (আল্লাহুআকবার) বলে। নামায শুরু করা।

২দাঁড়িয়ে নামায পড়া।

৩সুরা ফাতিহার পর যেকোনো সূরা মিলানো বা পড়া।

৪রুকু করা।

৫ দু্ই সিজদা করা।

৬ আখেরি মোনাজাত করা।

নামাজ পড়ার নিয়ম

নামাজ পড়ার আগে আপনাকে ওজু করতে হবে। আমরা এখনও অনেকেই আছি ওজুর ফরজ কয়টি বলতে পারিনা।

অজুর ফরজ ৪টি

১ সমস্ত মুখমন্ডল ধৌত করা।

২ দুই হাতের কুনি সহ ধোয়া।

৩ মাথা মাসেহ করা।

৪ দুই পায়ের টাকনু সহ ধোয়া।

আপনাকে অজু করে নামাজ পড়তে হবে। ওজু করার পর আপনাকে আপনার জায়নামাজ টিকে কেবলা মুখী বিসাতে হবে। আর আপনি যখন জায়নামাজে উঠবেন তখন একটি দোয়া আছে।

জায়নামাজের দোয়া

اِنِّىْ وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلَّذِىْ فَطَرَالسَّمَوَتِ وَاْلاَرْضَ حَنِيْفَاوَّمَااَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ

বাংলা উচ্চারন

ইন্নি ওয়াজ্জাহাতু ওজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাচ্ছামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন ।

বাংলা অর্থ

নিশ্চই আমি তাঁহার দিকে মুখ ফিরাইলাম, যিনি আসমান জমিন সৃষ্টি করিয়াছেন । আমি মুশরিকদিগের দলভুক্ত নহি ।

জায়নামাজের দোয়া পড়ে আপনাকে নামাজের নিয়ত করতে হবে। নিয়ত করার পর আপনাকে সানা পড়তে হবে।

সানা

আরবি উচ্চারণ

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالِىْ جَدُّكَ وَلَا اِلَهَ غَيْرُكَ

বাংলা উচ্চারণ

সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআ-লা জাদ্দুকা, ওয়ালা ইলাহা গায়রুক।

অর্থ : হে আল্লাহ আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতপূর্ণ, আপনার মাহাত্ন সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।

সানা পড়ার পর আপনাকে, সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা ফাতিহার সাথে যেকোনো একটি সূরা পড়তে হবে। তারপর আপনাকে, আল্লাহু আকবার বলে। রুকুতে যেতে হবে। রুকুতে যেয়ে কমপক্ষে তিনবার ,,সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম,, বলতে হবে। তারপরে আপনাকে, সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা, বলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। তারপর আপনাকে বলতে হবে।,রব্বানা লাকাল হামদ, বলে। আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেতে হবে।

সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর উভয় হাতের মধ্যে প্রথমে নাক এবং পরে কপাল মাটিতে রাখতে হবে। নিজের পেট রান থেকে এবং বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক করে রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুলকে কিবলামুখী করে রাখতে হবে। সিজদায় যাওয়ার পর আপনাকে কমপক্ষে তিনবার।,, সুবহানা রাব্বিয়াল আলা,, বলে সিজদা থেকে উঠে বসবেন। তারপর আবার সিজদায় যাবেন। যাওয়ার পর আবার ,,সুবহানা রাব্বিয়াল আলা,, কমপক্ষে তিনবার বলে। আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়াতে হবে। দাঁড়িয়ে আপনাকে আর ,জায়নামাজের দোয়া, সানা, বলতে হবে না। আপনাকে তখন সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। সূরা ফাতিহার সাথে আরেকটি সূরা পড়তে হবে। পরে আবার রুকুতে যাবেন। রুকুতে যাওয়ার পর। আবার ,সুবহানা রব্বিয়াল আজিম, কমপক্ষে তিনবার বলে দাঁড়াতে হবে। দাঁড়িয়ে রব্বানা লাকাল হামদ বলে। সিজদায় যেতে হবে। আর নামাজ যদি দুই রাকাত হয়। তবে আপনাকে দুটো সিজদা দেওয়ার পর। আল্লাহু আকবার বলে। বসতে হবে। বসার নিয়ম আপনাকে দুই হাটুতে হাত রাখতে হবে। হাত রাখার পর আপনাকে তাশাহুদ পড়তে হবে।

তাশাহুদ

আরবি উচ্চারণ

– اَلتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَن لَّاإِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. –

বাংলা উচ্চারণ

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্‌ সালাওয়াতু, ওয়াত্‌ তাইয়িবাতু। আস্‌সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্‌সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্‌ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্‌হাদু আননা মুহাম্মাদান আদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ

কি মৌখিক,কি দৈহিক,কি আর্থিক সকল ইবাদাত এক মাত্র আল্লাহ’র জন্য/সমস্ত সম্মানজনক সম্বোধন আল্লাহর জন্যে।সমস্ত শান্তি কল্যাণ ও পবিত্রার মালিক আল্লাহ। হে নবী, আপনার উপর আল্লাহ’র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)আসসালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সোয়ালেহিন(আমাদের উপর এবং সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর আল্লাহ’র শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোন ইলাহ নেই,আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ(সাঃ) আল্লাহ’র বান্দা ও রাসুল।

তাশাহুদ পড়ার পর আপনাকে দরুদ শরীফ পড়তে হবে।

দরুদ শরীফ

আরবি উচ্চারণ

إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ, وبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِْيدٌ مَجِيْدٌ . –

বাংলা উচ্চারণ

আললাহুম্মা সাললিআলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুম্মাদিন কামা সাললাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ। আললাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।

অর্থ

যে আললাহ , মুহাম্মদ (সাললাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর ঐরূপ আশীর্বাদ অবতীর্ণ কর যেইরূপ আর্শীবাদ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর অবতীর্ণ করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম। হে আললাহ! মুহাম্মদ (সাললাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর সেইরূপ অনুগ্রহ কর যে রূপ অনুগ্রহ ইব্রাহীম (আঃ) এবং তাঁহার বংশরগণের উপর করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।

দরুদ শরীফ পড়ার পর আপনাকে দোয়া মাসুরা পড়তে হবে।

দোয়া মাসুরা

আরবি উচ্চারণ

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمْاً كَثِيْراً، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুল্মান কাসীরাওঁ ওয়ালা ইয়াগ ফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা; ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ার হামনী ইন্নাকা আন্তাল গফুরুর রাহীম।

অর্থ

হে আল্লাহ্‌! আমি আমার নিজ আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি, গুনাহ মাফকারী একমাত্র তুমিই; অতএব তুমি আপনা হইতে আমাকে সম্পূর্ণ ক্ষমা কর এবং আমার প্রতি দয়া কর। তুমি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়ালু।

দোয়া মাসুরা পড়ার পর। সালাম ফিরাবেন।

নামাজ যদি চার রাকাত হয় তবে দুই রাকাতের সময় শুধু তাশাহুদ পড়ে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়াতে হবে। ফরজ নামাজ যদি হয়। তবে শুধু দুই রাকাতের পর। তার পরের দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ে রুকুতে যেতে হবে।

লাস্টের রাকাতে যখন আপনি সিজদা থেকে উঠে বসবেন বসার পর আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ শরীফ, দোয়া মাসুরা পরে সালাম ফিরাবেন।

সুন্নত নামাজ চার রাকাত হলে

দুই রাকাত নামাজ পড়ার পরে। আবারো সূরা ফাতিহার শেষে আরেকটি সূরা লাগাতে হবে তারপর আপনাকে রুকুতে যেতে হবে। লাস্টের রাকাতে আপনাকে সিজদা থেকে উঠে বসতে হবে। বসার পর। আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ শরীফ,দোয়া মাসুরা, পরে সালাম ফিরাতে হবে।

নামাজ পড়ার নিয়ম আমাদের সবাইকে জানতে হবে। আর আমরা সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো ইনশাআল্লাহ

আরো পড়ুন

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.