জানাজার নামাজের দোয়া ও নিয়ম

জানাজার নামাজের দোয়া ও নিয়ম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু আশা করি বন্ধুরা আপনারা সবাই ভাল আছেন। তো বন্ধুরা আপনাদের বলব জানাজার নামাজের দোয়া ও নিয়

জানাযার নামাজের দোয়া ও নিয়ত

মৃত্যু ব্যক্তির ওয়ারিসের ফরজ

মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তাহার ওয়ারিশদের উপর চারটি কাজ ফরজ হইয়া পড়ে।

১.মৃতকে গোসল দেওয়া।

২.কাফন পড়ানো।

৩.জানাযা নামাজ পড়া।

৪.দাফন করা।

মাইয়্যেতের গোসল সম্পর্কীয় নিম্নোক্ত মাছআলাসমূহ অবশ্যই মনে রাখা উচিত।

১.যে ব্যক্তি মাইয়্যেতকে গোসল করাইবে তাহার নিজের ও গোসলের পূর্বে অযু করিয়া লওয়া এবং গোসল করানোর পরে গোসল করা উচিত।

২.মৃত ব্যক্তি পুরুষ হইলে তাহাকে পুরুষ এবং স্ত্রী হইলে তাহাকে স্ত্রী লোকে গোসল করাইবে ।

৩.গোসল করতে পুরুষের জন্য পুরুষ লোক এবং স্ত্রীলোকের জন্য স্ত্রীলোক না পাওয়া গেলে মাহরুম লোক (জীতিতাবস্তায় যাহার সাথে বিবাহ জায়েয ছিল না) মাইয়্যেতকে তৈয়ম্মুম করাইয়া দিবে, গোসলের প্রয়োজন হইবে না।

৪.মাহরুম লোকের অভাব হইলে অন্য কোন ব্যক্তির হাতে কাপড় পেঁচাইয়া তৈয়ম্মুম করাইয়া দিবে।

৫.লোকাভাবে স্ত্রী স্বামীকে গোসল করাইতে পারিবে, কিন্তু স্বামী স্ত্রীলোকে গোসল করাতে পারবে না।

৬.অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক বালিকাদিগকে স্ত্রী-পুরুষ যে কেহ গোসল করাইতে পারে।

৭.সন্তান ভুমিষ্ট হইয়া মূহুর্তমাত্র জীবিত থাকিয়া মরিয়া গেলে তাহাকেও গোসল করাইতে হইবে, অবশ্য অজু করাইতে হইবে না। আর মাতৃগর্ভ হইতে মৃত ভুমিষ্ট হইলে তাহাকে গোসল করাইতে হইবে না।

৮.কেহ পানিতে ডুবিয়া মরিলে তাহাকেও গোসল করাইতে হইবে। অবশ্য পানি হইতে উঠাইবার সময় গোসলের নিয়তে তিন বার নাড়িয়া চাড়িয়া উঠাইলে গোসল আদায় হইয়া যায়।

৯.ধর্ম যুদ্ধে শহীদ ব্যক্তিকে গোসল করাইতে হয় না।

১০.সমস্ত শরীর একবারে পানি বহাইয়া গোসল করান ওয়াজিব, কিন্তু তিন তিনবার করিয়া সমস্ত শরীরে পানি ঢালিয়া ধৌত করা মুস্তাহাব।

জানাজার নামাজের নিয়ম

نَوَيْتُ اَنْ اُوَدِّيْ لِلّٰهِ تَعَالٰى اَرْبَعَ تَكْبِرَاتٍ صَلْوَةِ الْجَنَازَةِ فِرْضِ الْكِفَايْةِا لثَّنَاءُ لِلّٰهِ تَعَالٰى وَالصَّلَوةُ عَلٰى النَّبِي وَالدُّعَاءُ لِهَذَا الْمَيْتِ اِقْتَدَيْتُ بِهَذَاالاِمَامِ مُتَوَجِّهًا ا لٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفِةِ اَللهُ اَكْبَر.

জানাজার নিয়াত বাংলা উচ্চারণ

নাওয়াইতুয়ান উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবাআ তাকবীরতে ছলাতীল জানাযাতি ফারযুল কেফায়াতে আচ্ছানাউ লিল্লাহি তায়ালাও য়াচ্ছালাতু আলান্নাবীয়্যে ওয়াদ্দোয়াউ লেহাযাল মাইয়্যেতে এক্কতেদায়িতু বিহাজাল ইমাম মুতাওয়া জ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতে আললাল্হ আকবার

বাংলা অর্থ

আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে জানাযা নামাযের চার তাকবির ফরযে কেফায়া কেবলামুখী হয়ে ইমামের পিছনে আদায় করার মহস্থ করলাম । ইহা আল্লল্হ তায়ালার প্রশংসা রাসূলের প্রতি দরূদ এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া (আশীরবাদ) আল্লাহ মহান।

প্রথম তাকবীরের পর ছানা

سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك وجل ثناءك ولا اله غيرك

বাংলা উচ্চারণ

ছুবহানাক আল্লাহুম্মা ওয় বীহামদিকা ওয় তাবার কাচমুকা ওয় তায়ালা যাদ্দুকা ওয় জাল্লা ছানাউকা ওয় লা ইলাহা গইরুকা।

বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ ইমরা তোমার পবিত্রতার গুণ গান করিতাছি তোমার নাম মঙ্গলময় এবং তোমার স্ত্ততি অথি শ্রেষ্ঠ তুমি ব্যতীত আর কেহই উপাস্য নাই।

দ্বিতিয় তাকবীরের পর দরুদ

اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد – اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت علىحمید مجید

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা সল্লিআ’লা মুহাম্মাদিও ওয়া-আ’লা আলি মুহা’ম্মাদ,কামা সল্লাইতা আ’লা ইবরহিমা ওয়া-আ’লা আলি ইবরহিমা, ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ।আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিও ওয়া-আ’লা আলি মুহাম্মাদ,কামা বারকতা আলা ইবরহিমা ওয়া-আ’লা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।

দুরুদ শরীফ বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি (আপনার নিকটস্থ উচ্চসভায়) মুহাম্মাদকে সম্মানের সাথে স্মরণ করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে, যেমন আপনি সম্মানের সাথে স্মরণ করেছেন ইবরাহীমকে ও তাঁর পরিবার-পরিজনদেরকে। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহামহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার পরিজনের ওপর বরকত নাযিল করুন যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহামহিমান্বিত

জানাযার নামাজের দোয়া

দরুদ শরীফ পড়ার পর তৃতীয় তাকবীর আদায় করে জানাযার দোয়া পড়তে হয়।

জানাযার দোয়া:

لَّهُمَّ اغْفِرْلحَيِّنَاوَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَا نَا اَللَّهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلَى الاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الاْيمَانِ بِرَحْمَتِكَ يَا ارْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মাগফিরলি হাইয়্যেনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িইবিনা ও ছাগীরিনা ও কাবীরিনা ও যাকারিনা ও উনছানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলামী ওয়া মান তাওয়াফ ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফ ফাহু আলাল ঈমান বেরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহীমিন।

তবে নাবালক ছেলের ক্ষেত্রে জানাযার দোয়া পড়তে হবে,

اَللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرْطًا وْاَجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًا وَاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَمُشَفَّعًا

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মাজ আল হুলানা ফারতাও ওয়াজ আল হুলানা আজরাও ওয়া যুখরাঁও ওয়াজ আলহুলানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ্ফায়ান।

নাবালিকা মেয়ের ক্ষেত্রে জানাযার দোয়া পড়তে হবে,

اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرْطًا وَاجْعَلْهَا لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًاوَاجْعَلْهَا لَنَا شَافِعَةً وَمُشَفَّعَة

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মাজ আলহা লানা ফারতাও ওয়াজ আলহা লানা আজরাও ওয়া যুখরাও ওয়াজ আলহা লানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ ফায়ান।

এরপর চতুর্থ তাকবীর দিয়ে একটু নীরব থেকে ডানে এবং বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

কবর জিয়ারতের নিয়াত

দিনে অথবা রাতে যে কোন সময়ে কবর জিয়ারত করা যায়।এতে শরীরত সম্মত কোন বাধা নেই। তবে শুক্রবার দিন অথবা রাতে কবর জিয়ারত করা উত্তম।এ ছাড়া শাবানের চাঁদের ১৪ ও ১৫ দিবাগত রাতে মা-বাবা,আত্মীয়-স্বজন অথবা যে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য এ রাতে কবর জিয়ারত করা সুন্নত।

হাদীসে আছে যে,হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ রাতে মদীনা শরীফের করর স্থান জান্নাতুল বাঁকীতে গিয়ে মৃত আত্মার জন্য দোয়া করেছিলেন।ঐ রাতে গুরুত্ব অপরিসীমা।

আরো পড়ুন

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.